দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে হামলার শিকার হয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সোমবার (১৫ জুন) শহীদ স্মারকে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিকেল ৩টায় নির্ধারিত সমাবেশে যোগ দিতে সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সভাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন অভিজিৎ দিপকে। এ সময় ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন তার গলায় থাকা স্কার্ফ টেনে ধরেন এবং একাধিকবার চড় মারেন। পাশাপাশি তাকে কাঁধ থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির রাজ্য মুখপাত্র অভিষেক জৈন বিট্টু প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, হামলার ঘটনায় পুলিশ ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সমাজবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, জুনের তীব্র গরমের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকেল ৩টায় সমাবেশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে মানুষের অংশগ্রহণ কমে যায়।
হামলার পর প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের সময় আমার ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু আমি কারও ওপর হাত তুলব না। কাপুরুষরাই সহিংসতার পথ বেছে নেয়। আমি কোনোভাবেই চুপ থাকব না।’
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাদের ভয় দেখানো এবং মূল ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার কৌশল। আমাদের একমাত্র দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অন্যায়ের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করতে হবে। তারা যতবারই আমাদের ওপর হামলা করুক, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
তিনি আরও বলেন, তাদের আন্দোলন ভালোবাসা ও অহিংসার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং বিরোধীদের উদ্দেশে ‘গেট ওয়েল সুন’ বার্তাও দেন।
উল্লেখ্য, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মে মাসে এটি আলোচনায় আসে। দলটি ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকাকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, সিবিএসই-সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
অভিজিৎ দিপকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে এবং দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এমএস/